কবি কাজী নজরুলের জীবন ও কর্ম
কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১১ই জৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ,২৪মে১৮৯৯খ্রি:
জন্মস্থান: পশ্চিম বঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে।
পিতা:কাজী ফকির আহাম্মদ
মাতা:জায়েদা খাতুন।
বাবা মায়ের ৬ষ্ঠ সন্তান। ডাকনাম দুখু মিয়া।
১৯০৯ সালে ১০ বছর বয়সে গ্রামের মক্তব থেকে নিন্মপ্রাথমিক বিদ্যালয় উত্তীর্ণ হন।
১২ বছর বয়সে লেটোদলে যোগদান এবং পালা গান লেখা শুরু করেন।
১৫ বছর বয়সে ১৯১৪ সালে ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে ৭ম শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৬ বছর বয়সে ১৯১৫ সালে পশ্চিম বঙ্গের সিয়ারসোল রাজ স্কুলে ৮ম শ্রেণীতে ভর্তি হন। এ স্কুল থেকে১৮ বছর বয়সে ১০ শ্রেণীর ফ্রিটেস্ট পরীক্ষার সময় লেখা পড়া অসমাপ্ত রেখে ১৯১৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় তিনি সৈনিকদের কোয়াটার মাষ্টার হাবিলদার হয়েছিলেন। পাকিস্তানের করাচিতে সৈনিক জীবন কাটান। ১৯২০ সালে তিনি ১ম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯২০ সালে তিনি সৈনিক জীবন ত্যাগ করে কলকাতা ফিরে আসেন।
কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মোজাফ্ফর আহমদের
যুগ্ম সম্পাদনায় সান্ধ্য পত্রিকা হিসেবে নব যুগ প্রকাশিত হয়। এর দু’বছর পর ১৯২২ সালে ১২ আগষ্ট ধুমকেতু পত্রিকা প্রকাশ করেন।
এই ধুমকেতুকে উদ্দেশ্য করে রবীন্দ্র নাথ লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম কল্যাণীয়েষু আয়রে চলে আয়রে ধুমকেতু,আঁধারের বাঁধ অগ্নিসেতু। দুর্দিনের এই দুর্গ শিরে উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন।
নজরুলের কবিতা আনন্দময়ির আগমনে ও বিদ্রাহীর কৈফিয়ত ধুমকেতুর শারদীয় সংখ্যায় প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালের ২৬ সেপ্টের। এই সংখ্যাটা নিষিদ্ধ হয়।
এজন্য নজরুলকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৯২৩ সালে তিনি জেলে বসেই লিখেন রাজবন্দীর জবান বন্দী।
নজরুল জেলে থাকা অবস্থায় রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর তার বসন্ত গীতি নাট্যটি নজরুলকে উৎসর্গ করেন। এ আনন্দে নজরুল জেলে বসে সৃষ্টি সুখের উল্লাসে কবিতাটি লিখেন।
১৯২৫ সালে নজরুলের সম্পাদনায় লাঙ্গল পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
১৯৩৯ সালে তার স্ত্রী রোগে আক্রান্ত হন। সে কারনে তার সমস্ত সৃষ্টি কর্ম মাত্র ৪০০ রুপিতে বন্ধক রাখতে বাধ্য হন। ১৯৪১ সালে কাজী নজরুল ইসলাম প্রধান সম্পাদক হিসেবে দৈনিক নব যুগ পত্রিকায় যোগদান করেন।
১৯২১ সালে কুমিল্লায় অবস্থান কালে আশালতা গুপ্তা নামে এক হিন্দু মেয়ের সাথে পরিচিত হন। ১৯২৪ সালের ২৪ এপ্রিল তারা বিয়ে করেন। তার পর নজরুল তার স্ত্রীর নাম পাল্টে রাখেন প্রমীলা দেবী। বৈবাহিক জীবনে নজরুল ছিলেন চার সন্তানের জনক।
১৯৪২ সালে কাজী নজরুল ইসলাম পিক্স ডিজিজ নামক এক দুরারোগ্য মস্তিষ্কের ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। কথা বলার শক্তিসহ স্মৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলেন। তাকে হুমিওপ্যাথিক ও আয়ূরবেদিক চিকিত্সা দেয়া হয়। ১৯৫২ সাল অব্দি নজরুল ও তার স্ত্রী নির্জন ও একাকী জীবন যাপন করেন। পরে নজরুলের গুনগ্রাহীদের প্রচেষ্টায় লন্ডন ও ভিয়েনায় চিকিৎসার চেষ্টা করেন। দু’জায়গা থেকে জানানো হয়। রোগটি অনিরাময় যোগ্য। ১৯৫৩ সালে ১৫ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন।
১৯৬২ সালের ১৫ জুন তার স্ত্রী প্রমিলার দেবী মৃত্যু বরণ করেন
।
নজরুল তার জীবদ্দশায় ২৬০০ গান রচনা করেন। তিনটি উপন্যাস রচনা করেন।
১৯২৭ সালে বাঁধন হারা,১৯৩০ সালে মৃত্য ক্ষুধা,১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয় কুহেলিকা।
কাজী নজরুল ইসলামের গ্রন্থের সংখ্যা ৫১টি-
ইসলামিক গল্প গ্রন্থ-(১)ব্যথারদান
(২)রিক্তের বেদন (৩)চোখের ছাতক
(৩)নজরুল গীতিকা (৫)সুরসাকী
(৬)বনগীতি (৭)গানের মালা ইত্যাদি
নাটক:ঝিলিমিলি,আলেয়া,পুতুলের বিয়ে,মধুমালা।
নজরুল ছিলেন প্রথম বাঙ্গালী চলচ্চিত্রকার। ধুপছায়া নজরুলের প্রথম সিনেমা। ধ্রুব নামক ছবিতে নজরুল অভিনয় করেন। নজরুলের খুকন ও কাঠবিড়ালী,লিচুচোর নামক কাব্য গ্রন্থ নিয়ে সিনেমা নির্মিত হয়।
নজরুলের গল্পগ্রন্থ গুলো-শিউলী মালা ১৯২২
রিক্তের বেদন ১৯১৯
ব্যথারদান ১৯২২
অগ্নিবীনা,সন্জ্ঞিতা,মরুভাস্কর,চিত্তনামা,ছায়ানট,বিষের বাঁশি,সন্ধ্যা,দোলন চাঁপা,জিন্জ্ঞির,চক্রবাক,প্রস্ত শিখা,সর্বহারার ,ফনিমনসা,সিন্ধুহিন্দোল,ভাঙ্গারগান,
ঝিঙ্গেফুল,ভাঙ্গারগান,নতুন চাঁদ,সাম্যবাদী।প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ -অগ্নিবীনা
প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস-বাঁধন হারা
প্রথম প্রবন্ধ গ্রন্-যুগবাণী
প্রথম নাট্যগ্রন্থ-ঝিলিমিলি
নজরুলের ৫টি গ্রন্থ বাজেয়াপ্ত হয়-বিষের বাঁশি,
ভাঙ্গার গান,প্রলয় শিখা,চন্দ্রবিন্দু ,যুগবাণী।
দু’টি অনুবাদ-রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ (১৯৩০)
রুবাইয়াৎ -ই-ওমর খৈয়াম (১৯৬০)
তিনি বাংলাদেশের রণসংগীতের রচয়িতা।
নজরুল তার পুত্রের নাম রাখেন কৃষ্ণ মোহাম্মদ। বিরাজ সুন্দরী নামক কুমিল্লার এক মহিলাকে তিনি তার মায়ের মত সন্মান করতেন।
পদক-
১৯৪৫ সালে নজরুলকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় জগত্তারিণী স্বর্ন পদকে ভূষিত করেন।
১৯৬০ সালে ভারত সরকার কর্তৃক পদ্মভূষণ পদকে ভূষিত করেন।
১৯৬৯ সালে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডি-লিট প্রদান করেন।
১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডি-লিট প্রদান করেন। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে ২১শে পদকে ভূষিত করেন।
১৯৭২ সালের ২৪শে মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশে আনা হয়। নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
তাকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেয়া হয়
২৯আগষ্ট ১৯৭৬ সাল (১২ই ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ ঢাকায়
মৃত্যু বরণ করেন।

Post a Comment